🔴 বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার উদ্বেগজনক! 📉 এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ৮ম 🚨
🔴 বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার উদ্বেগজনক! 📉 এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ৮ম 🚨
নারীর উন্নয়নে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বাল্যবিবাহের হার কমেনি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয় এমন দেশের তালিকায় শীর্ষে এবং বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।
বাল্যবিবাহের বর্তমান চিত্র:
জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের যৌথভাবে প্রকাশিত ‘গার্লস গোলস: হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড ফর গার্লস? অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস রাইটস ওভার ৩০ ইয়ার্স’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৫১.৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৮ বছর হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন ২৪% নারী, এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের ২৮% সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতায় নারীদের পিছিয়ে পড়া:
নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি হলেও ডিজিটাল দক্ষতায় বাংলাদেশি কিশোরী ও তরুণীরা ভয়াবহভাবে পিছিয়ে আছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বে যে সাতটি দেশে নারীদের ডিজিটাল দক্ষতার হার মাত্র ২% বা তার কম, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
এছাড়া, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করতে পারে মাত্র ৫৯.২২% কন্যাশিশু। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে উন্নতি আনতে হলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন
"জীবন দক্ষতা ও ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি শিশু বিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। কেননা অল্প বয়সে সন্তান ধারণের কারণে অনেক মা ও তাদের নবজাতক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান।"
ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন—
"বাংলাদেশে এখনো অনেক কন্যাশিশু স্কুলে যায় না এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন—
"শিশুবিয়ে রোধ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, এবং জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।"
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নারীদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, এবং ডিজিটাল দক্ষতার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
No comments